দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পর শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসতে পারে এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও আরও জোরালো হতে পারে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে Reuters-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। পরে ৫ আগস্ট দিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এই ঘোষণার পর দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা হতাশ হয়ে থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে নতুন করে উৎসাহ দেখা দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা তাদের মধ্যে ‘আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর’ আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হলে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়েন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগের কথা জানান। পরবর্তীতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।
এরপর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া এবং দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশে ফিরে রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে উঠবে। তাদের কাছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা শুধু একজন নেত্রীর প্রত্যাবর্তনের বার্তা নয়—বরং দীর্ঘ প্রতিকূলতার পর দলটির রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনারও একটি প্রতীক।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘিরে এখন তাই আওয়ামী লীগের তৃণমূলে একদিকে যেমন উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে তেমনি নতুন প্রত্যাশা। ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসছে, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নটি আরও জোরালো হচ্ছে—শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে?
