মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবের পর এবার এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয়ও ১২৫.৯৮ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) তৈরি করেছে। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮.৫৪ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বাড়ছে ৫১ হাজার ৯৫২.৪২ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির সরকারি অর্থায়ন ১২ হাজার ১২১.৫০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ২৫৯.৭২ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের অংশ ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৮ হাজার ৯৩১.২৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ও বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যের পরিবর্তে নতুন প্রস্তাবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের কয়েকটি বড় নির্মাণ প্যাকেজে মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ঠিকাদারদের দরপ্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এসেছে।
সিপি-০৫ প্যাকেজে মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৪৪২.৭১ কোটি টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রাক্কলনে তা দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১২.৬০ কোটি টাকা। কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা জাপানের এসএলটিএম ১১ হাজার ১৭৭.৬৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করে।
সিপি-০৬ প্যাকেজে মূল ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৬৪.৭৫ কোটি টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রাক্কলন ছিল ৬ হাজার ১২৬.৩০ কোটি টাকা। সেখানে তাইসেই-স্যামসাং জয়েন্ট ভেঞ্চার সর্বনিম্ন ১৫ হাজার ৫২৭.০২ কোটি টাকার দর প্রস্তাব করে।
প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।
মূল প্রকল্প প্রস্তাবে এক মার্কিন ডলারের মূল্য ধরা হয়েছিল ৮৪.৫০ টাকা। সর্বশেষ প্রস্তাবে ৩০ জুলাই ২০২৬-এর ভিত্তিতে ডলারের মূল্য ধরা হয়েছে ১২৩.৮২ টাকা। অর্থাৎ আগের তুলনায় টাকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
প্রকল্পের রোলিং স্টক, রেলওয়ে ও ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল সিস্টেম এবং পরামর্শক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় থাকায় বিনিময় হার ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, জাপানি অর্থায়নের শর্ত এবং নির্দিষ্ট কারিগরি বৈশিষ্ট্যের কারণে দরপত্রে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া অন্যান্য মেট্রোরেল প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে ব্যয় তুলনা করলে প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক কি না, তা আরও পরিষ্কার হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, উচ্চ নির্মাণ ব্যয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাতাল মেট্রোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
এমআরটি-৫ নর্দার্ন রুটটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এর মধ্যে ১৩.৫ কিলোমিটার থাকবে ভূগর্ভস্থ এবং ৬.৫ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে।
রুটটিতে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে—৯টি ভূগর্ভস্থ এবং ৫টি উড়াল। প্রকল্পটি মোট ১০টি চুক্তি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
