গ্যাস সংকটে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পকারখানা, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন

অবশ্যই পরুন

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কম চাপের কারণে পোশাক, ডাইং, বস্ত্র, চামড়া, ইস্পাত, সিরামিক ও কাগজ শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কম উৎপাদন হচ্ছে।

শিল্পমালিকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বয়লার ও জেনারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রেখেও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের এক হাজারের বেশি কারখানা গ্যাস সংকটে পড়েছে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন, সেখানে অনেক এলাকায় মিলছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই।

সংকট মোকাবিলায় কিছু কারখানা ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছে। তবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সাভারের বিভিন্ন শিল্পকারখানায়ও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। পাকিজা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য অন্তত ৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন হলেও অনেক সময় চাপ ১ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানাগুলোতেও একই পরিস্থিতি। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ জানান, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য ২০ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ৪ থেকে ৬ পিএসআইয়ের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, তিন মাস আগে কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ গজ কাপড় উৎপাদন হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার গজে।

সাভারের চামড়াশিল্প নগরেও গ্যাস সংকট তীব্র। সেখানে ১৪৫টি কারখানার মধ্যে প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে না। বাকি কারখানাগুলোও চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে প্রায় অর্ধেক কারখানা চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে। এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে শ্রমিকনেতারা বলছেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব উৎপাদনের পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজের ওপরও পড়ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিতাসের সাভার জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ হাসান আল মামুন জানান, চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং কম চাপের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ