রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহে সাধারণ মানুষকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আয়াস। অভিযোগ রয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খোঁজার নামে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে হয়রানি ও মারধর করেছেন। তাদের মধ্যে একজন সিঙ্গারা বিক্রেতা ও একজন রিকশাচালকও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহে সাধারণ নাগরিককে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
এর আগেও শান্তা ফারজানা নামের এক নারীকে মারধরের ঘটনায় আয়াস আলোচনায় এসেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে। ওই ঘটনার পর দ্বিতীয় দফায় তাকে মারধরের চেষ্টা করলে তিনি নিজেই গণপিটুনির শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একের পর এক এমন ঘটনার অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠনের ঘনিষ্ঠতা কিংবা অতীত আন্দোলনের পরিচয় কি কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ দিতে পারে?
বিশেষ করে বর্তমানে দেশে মব সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত শাস্তি নিয়ে যখন উদ্বেগ রয়েছে, তখন প্রকাশ্যে কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহে মারধরের ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে শুধু ভুক্তভোগীর অধিকারই লঙ্ঘিত হয় না, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
