সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জনমানুষের নেতা আনম শফিকুল হকের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৪ আগস্ট। ২০১৯ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাকে স্মরণ করছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুসারীরা।
আনম শফিকুল হক সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণমানুষের বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনীতির নানা প্রতিকূল সময়ে তিনি আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে আপস না করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে থেকেছেন এবং রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুম, নির্যাতনসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। তবে কোনো বাধাই তাকে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি বলে তার অনুসারীদের দাবি।
সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও আনম শফিকুল হকের সরব ভূমিকা ছিল। ক্ষমতা, ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা স্বার্থের চেয়ে তিনি মাটি ও মানুষের অধিকারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা স্মরণ করেন।
সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার নিয়ে তার আন্তরিকতার কারণে তিনি সিলেটের মানুষের কাছে একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ, সাহস ও আদর্শের এক দীর্ঘ পথচলা।
২০১৯ সালের ১৪ আগস্ট তার মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেখতে দেখতে তার মৃত্যুর সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ত্যাগ ও গণমানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা এখনও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মরহুম আনম শফিকুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহর কাছে তার জীবনের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা, নেক আমল কবুল এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়েছে।
