রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা জানাল ছাত্রলীগ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণের আহ্বান

অবশ্যই পরুন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনকে বর্তমান সময়ে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন সাহিত্যিক নন; তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান নির্মাতা এবং মানবমুক্তির এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তাঁর অমর সৃষ্টি, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ আজও বাঙালি জাতিসত্তাকে আলোকিত করে চলেছে।

ছাত্রলীগের দাবি, দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও অসাম্প্রদায়িক শেকড়কে দুর্বল করার অপচেষ্টার প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের দর্শন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিবৃতিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাঙালি মেধার স্বীকৃতি এনে দেয়। পাশাপাশি তাঁর রচিত জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও জাতীয় পরিচয়ের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি প্রত্যাখ্যানের ঘটনাকে রবীন্দ্রনাথের নৈতিক সাহসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, সেই আদর্শ অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জোগায়।

দেশে অসহিষ্ণুতা, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার সমালোচনা করে ছাত্রলীগ জানায়, একটি দেশের প্রকৃত মুক্তি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনে নয়; বরং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশের মধ্যেই নিহিত।

বিবৃতির শেষাংশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আদর্শ ধারণ করে প্রগতিশীল, মানবিক ও সাংস্কৃতিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সকল কুসংস্কার ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ