শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগস্ট মাসজুড়ে বিভিন্ন স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল, শোভাযাত্রা, প্রতিবাদ সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সামাজিক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগস্ট মাস বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে বেদনা, কালিমালিপ্ত ও শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডকে স্মরণ করে এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের দাবি, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
মাসব্যাপী কর্মসূচি
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩১ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (১ আগস্টের প্রথম প্রহর) আলোর পথযাত্রা, আলোক প্রজ্জ্বলন, মশাল মিছিল, কালো ব্যাজ ধারণ এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শোকের মাসের সূচনা করা হবে।
১ আগস্ট দোয়া, মিলাদ ও প্রার্থনা সভার মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু হবে। ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ছাত্র-জনতা, পুলিশ ও গণতন্ত্র-সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, বনানী কবরস্থান ও বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, প্রার্থনা সভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।
এছাড়া ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও গণপদযাত্রা, ২৪ আগস্ট আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন, ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ২৯ আগস্ট আগস্ট মাসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
২৯ আগস্টের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক ইউনিট এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
