১৬শ শতাব্দীতে ক্রিকেটের সূচনা হওয়ার পর থেকে খেলাটির তিনটি প্রধান ফরম্যাট টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ১০ ওভার ও ১০০ বলের ক্রিকেট চালু হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এবার ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে আসছে একদম নতুন অধ্যায় ‘টেস্ট-টোয়েন্টি’ নামে এক নতুন ফরম্যাট।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ম্যাথু হেইডেন, হরভজন সিং, ক্লাইভ লয়েড ও এবি ডি ভিলিয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফরম্যাটের ঘোষণা দেন। আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হবে এর প্রথম মৌসুম, যার নাম রাখা হয়েছে জুনিয়র টেস্ট-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রথম আসরে অংশ নেবে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটাররা, আয়োজক হবে ভারত। দ্বিতীয় মৌসুম থেকে নারী ক্রিকেটাররাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নতুন এই ফরম্যাটে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে মোট ৮০ ওভার খেলা হবে। দুই দলই খেলবে দুটি ইনিংস করে, প্রতিটি ইনিংস হবে ২০ ওভারের। প্রতিটি ইনিংসের রান পরের ইনিংসে যোগ হবে, অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটের মতো ধারাবাহিক রান হিসাব চলবে। পুরো ম্যাচটি একদিনেই শেষ হবে। কোনো দল ২০ ওভারের আগেই অলআউট হলে ইনিংস সেখানেই শেষ বলে গণ্য হবে।
প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে থাকবেন ১৬ জন খেলোয়াড় ৮ জন ভারতীয় ও ৮ জন বিদেশি। প্রথম মৌসুমে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নেবে, যার মধ্যে তিনটি ভারতের ও তিনটি অন্যান্য দেশের।
নতুন এই সংস্করণটির উদ্ভাবক গৌরব বাহিরভানি, যিনি ওয়ান-ওয়ান সিক্স নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী ও ক্রীড়া উদ্যোক্তা। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি লিগ নয়, বরং ক্রিকেটের ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিভা আবিষ্কারের একটি উদ্যোগ।
টেস্ট-টোয়েন্টির পরামর্শক বোর্ডে আছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ক্লাইভ লয়েড, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ম্যাথু হেইডেন ও হরভজন সিং। এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “এটি খেলোয়াড় ও দর্শকের জন্য নতুন স্বপ্নের সূচনা।” হেইডেনের ভাষায়, “এটি এক প্রজন্মের সঙ্গে আরেক প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করছে।”
তবে ক্লাইভ লয়েড মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেট এখনও অবহেলিত। তাঁর মতে, “প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বা টেস্ট না খেললে প্রকৃত সেরা ক্রিকেটার তৈরি করা সম্ভব নয়।”
