রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে ফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের দাবি, জুলাই মাসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাদের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য ফুলবাড়িয়া এলাকায় জড়ো হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে তাদের ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কবির আহমেদ নামে এক জামায়াত নেতা ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি গুলিস্তান সাংগঠনিক ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পেশায় মোবাইল পার্টস ব্যবসায়ী। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান ও মিছিল করছিলেন। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে বিএনপির ছয়জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গুলিস্তানের নগর প্লাজা মার্কেটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তর মার্কেট সমিতির আগের কমিটি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শনিবার উভয় পক্ষের লোকজন ফুলবাড়িয়া এলাকায় জড়ো হলে একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
শাহবাগ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুন্নবী রায়হান অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে ১৫ জন আহত হন।
তবে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। তিনি মার্কেট দখল বা চাঁদাবাজির অভিযোগও নাকচ করেন।
ন্যাশনিক্স/এলকে
