জাতিসংঘ আসন্ন কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সদস্যদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ অর্থসংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত তহবিল প্রদানের কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এক শীর্ষ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষী—সৈন্য ও পুলিশ সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক বেসামরিক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় তহবিলদাতা যুক্তরাষ্ট্র, যারা পুরো বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ বহন করে থাকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, প্রায় ২৪ শতাংশ অবদান রাখে তারা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার। যদিও তারা শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের পরিকল্পনা করেছে, তবে দেশটির জাতিসংঘ মিশন এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের শান্তিরক্ষা তহবিল বাতিল করে দেয়। তাছাড়া ২০২৬ সালের জন্যও নতুন করে বাজেট কেটে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মালি, কঙ্গো এবং লেবাননের মতো স্থানে শান্তিরক্ষা অভিযান প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই ছাঁটাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা এবং গোলান মালভূমির মতো অঞ্চলের মিশনগুলোতে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংস্থার খরচ কমানো এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সংস্থার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এমন আর্থিক সংকটকে বিশেষজ্ঞরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই ছাঁটাই বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা হতে পারে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ দেশগুলোর একটি। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেপাল ছিল শীর্ষে ৫,৩৫০ শান্তিরক্ষী নিয়ে। রুয়ান্ডা ছিল দ্বিতীয় স্থানে ৫,২৩৭ সদস্য নিয়ে এবং বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে ছিল ৫,২৩০ শান্তিরক্ষী (এর মধ্যে ৪৪৭ নারী)।
১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ পরবর্তী সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ প্রথমবার জাতিসংঘ মিশনে অংশ নেয়। এরপর থেকে দেশটির সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ সদস্যরা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গর্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
