হামে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা কত? সরকারিভাবে তথ্য গোপনের অভিযোগ

অবশ্যই পরুন

দেশে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতাল, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে সরকারি প্রতিবেদনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা এড়াতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির ভাষ্য, এটি ইচ্ছাকৃত গোপন নয়; বরং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন পাঠানোর দুর্বলতার কারণেই এমন পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও হাসপাতালগুলো থেকে তথ্য কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সর্বশেষ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয় না।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রংপুর বিভাগে সরকারি হিসাবে কোনো মৃত্যুর তথ্য না থাকলেও স্থানীয় হাসপাতাল ও প্রশাসনিক রেকর্ডে অন্তত চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই ধরনের অমিল দেখা গেছে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও।

বিশেষ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে সেখানে তুলনামূলক কম সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গে ৩৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৬৩৫ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৬১।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ পরিস্থিতির সঠিক ও সমন্বিত তথ্য প্রকাশ না হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও আরও বাড়তে পারে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ