দেশে সময়মতো টিকা না পাওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান, ভিটামিন এ সরবরাহ এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।
তাদের ভাষ্য, বহু শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি। পাশাপাশি অনেক শিশুই সময়মতো ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আসেনি। শিশুদের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে যাওয়াও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং হামের ঝুঁকি বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এতসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। তাদের মতে, টিকার পাশাপাশি সঠিক পুষ্টিও শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, শিশুস্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিন অবহেলা ছিল। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সচেতনতা কমে যাওয়া, ভিটামিন এ কার্যক্রমে দুর্বলতা এবং কৃমিনাশক সেবনে অনিয়ম—এসব কারণে শিশুদের অপুষ্টি বেড়েছে। এর সঙ্গে সময়মতো হামের টিকা না পাওয়ায় অনেক শিশু অরক্ষিত হয়ে পড়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করেছে।
