পাঁচ মাস ধরে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, দুর্ভোগে জয়পুরহাটের রোগীরা

অবশ্যই পরুন

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ সাড়ে চার মাস ধরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। এতে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিন শতাধিক রোগী হাসপাতালে এলেও সরকারি ভ্যাকসিন না থাকায় অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে কিংবা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে টিকা কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালের ভ্যাকসিন সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের কাউন্টারে “সরকারি ভ্যাকসিন সাপ্লাই বন্ধ” উল্লেখ করে নোটিশও টানানো হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিন দেড়শ থেকে আড়াইশ রোগী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী সেবা নিতে এলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

রোগীদের স্বজনরা জানান, বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে গেলে একেকটি ডোজের জন্য কয়েকশ টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই একটি প্যাকেটে চারটি ভায়াল থাকায় চারজন রোগী একত্র না হলে ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জরুরি চিকিৎসা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

হাসপাতালে আসা একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কেনা অত্যন্ত কষ্টকর। অনেকেই অর্থের অভাবে পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। এতে রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, “সরকারি সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি।”

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত নতুন চালান পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ। আক্রান্ত হওয়ার পর সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় শতভাগ। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে শুধু জয়পুরহাট নয়, দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকটের খবর পাওয়া গেছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ