দেশজুড়ে জলাতঙ্কের টিকার ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে টিকা কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে টিকার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রমও।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও কেন্দ্রীয় টিকা সংগ্রহ কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকার সরবরাহ কমে যাওয়ায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি হাসপাতালে টিকা না পেয়ে অনেক পরিবারকে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে বেশি দামে টিকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হলেও বর্তমানে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতাল নিজেদের সীমিত বাজেট থেকে অল্প পরিমাণ টিকা কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিবছর দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ কুকুর বা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের শিকার হন। তাই টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন করে বিপুল পরিমাণ টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ ডোজ জলাতঙ্কের টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগির পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, টিকাসংক্রান্ত সংকটের মধ্যেই দেশে হাম ও হামসদৃশ রোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
