জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

অবশ্যই পরুন

৫ আগস্টের পরে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ২০১ সদস্যের এই কমিটি গঠনের বিষয়টি জানা গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হয়নি।

গত বছরের জুলাই মাসের পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক নেতা-কর্মী দেশত্যাগ করেন। একই বছরের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্রলীগকে ‘নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বর্তমানে সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা ভারতে অবস্থান করছেন, আর দেশের ভেতরে থাকা সদস্যরা আত্মগোপনে আছেন—প্রকাশ্যে এলেই স্থানীয় জনতা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেছে। এর আগে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি এক বছরের জন্য ৩৫ সদস্যের আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেটির পরিধি বাড়িয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে চিঠির মাধ্যমে।

পদপ্রাপ্ত নেতাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পদ উল্লেখ করে পোস্ট দিয়েছেন। সহসভাপতি হাসিব চৌধুরী বাধন লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সহসভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।” সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস শিশিরও ফেসবুকে নিজের পদ প্রকাশ করেছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হাওলাদার লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।”

অন্য এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফিয়া সুপ্তি লিখেছেন, “এই কমিটি শুধু একটি তালিকা নয়, বরং এক ধরনের ইতিহাস। দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতেও ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় দেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য হয়েও আমরা অনেকেই পরিচয়হীন ছিলাম।”

ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাদের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে পুরান ঢাকার তিনটি থানায় তাদের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টির বেশি মামলা হয়েছে, যেখানে তিন শতাধিক নেতাকর্মী আসামি। ক্যাম্পাসে গেলে অনেকেই হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জবি শাখা ছাত্রদলও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৪০০ জনের বেশি ছাত্রলীগ কর্মীর তালিকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়া আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তবুও নতুন কমিটিতে অনেক সক্রিয় শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে।”

তবে শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “যে কোনো শিক্ষার্থী যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে।”

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ