বাংলাদেশ খাদ্য সংকটের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায়—গভীর উদ্বেগ, বাড়ছে জবাবদিহির প্রশ্ন

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সেই ১০টি দেশের একটি, যেখানে মানুষ সবচেয়ে তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে প্রস্তুত করা Global Report on Food Crises-এ। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে আফগানিস্তান, সুদান, ইয়েমেন এবং মিয়ানমারের মতো দেশ—যেগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিহীন একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অবস্থান কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। প্রতিবেদনে খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধ না থাকলেও খাদ্য সংকটের তীব্রতা ইঙ্গিত দিচ্ছে ভেতরের গভীর সমস্যার দিকে।

এদিকে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকা এবং ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় নির্বাচনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ক্রমবর্ধমান সারের দাম ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কার্যকর নীতি ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বড় কোনো উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সমালোচকদের ভাষায়, “বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়—প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ।”

একটি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো তার নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা দেখা দিলে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে আসে। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সেই জবাবদিহির পথ কতটা কার্যকর—তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ, কৃষি খাতে সহায়তা বৃদ্ধি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে খাদ্য সংকট আরও গভীর আকার ধারণ না করে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ