দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না বিএনপি সরকার

অবশ্যই পরুন

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকারে পেট্রোল ও অকটেন জমে থাকায় দ্বৈত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কিছু ক্ষেত্রে তেল গ্রহণ করছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার বড় অংশ সরবরাহ করে স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে চারটি বেসরকারি। মাসিক চাহিদা প্রায় ৭৫ হাজার টন। এর উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল বিপিসির পক্ষ থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তেল গ্রহণে অনাগ্রহ দেখানো হয়। এতে তাদের সংরক্ষণ ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরকারি একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্থানে পাম্পে ১ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত লাইন তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

এদিকে দেশে অকটেন সংরক্ষণের সক্ষমতা প্রায় ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে তারও বেশি। এর মধ্যে নতুন করে বড় পরিমাণ অকটেনবাহী জাহাজ আসায় চাপ আরও বেড়েছে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা জানিয়েছেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বিতরণ পর্যায়ে তেল গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। একই ধরনের সমস্যার কারণে এর আগেও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানান, অকটেন সংরক্ষণের জায়গা সীমিত থাকায় ধাপে ধাপে তেল নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলো প্রতিদিন গড়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সীমিত রাখার নীতির কারণে বাজারে আতঙ্ক ও মজুত প্রবণতা বেড়েছে, যা পাম্পে দীর্ঘ লাইনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি গ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ