গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্পে ধস, উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ

অবশ্যই পরুন

জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিকল্প উৎস খোঁজা এবং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। এ আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। সভায় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সূচনা বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের জ্বালানির বড় অংশই আমদানিনির্ভর এবং এর বেশিরভাগ আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহ চাপে পড়েছে। ফলে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত কমে যাচ্ছে এবং দ্রুত আমদানি না হলে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি ঘাটতির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং প্রতিটি কনটেইনার পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হচ্ছে। এ অবস্থায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধান অতিথি শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, কৃষিখাতে প্রয়োজনীয় সারের মজুত নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে উল্লেখযোগ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করার দিকে নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর সদস্য মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অন্যদিকে, সৌরবিদ্যুৎ খাতে উচ্চ শুল্কের কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমান সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ