ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী পাভেলকে মারধর করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ফেসবুকে ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা।
বন্ধুদের অভিযোগ, সেহরির সময় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার খেতে যাওয়ার পথে পাভেলকে আটকানো হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বুয়েট ক্যান্টিন এলাকায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাভেল একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। বাবার মৃত্যুর পর তিনি কয়েকটি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা এবং পরিবারের খরচ চালিয়ে আসছেন। তারা আরও দাবি করেন, ক্যাম্পাসে তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত এবং ছাত্রলীগের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী নাদিম মাহমুদ শুভ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের হাসিব আল ইসলাম এবং মুহসিন হলের সাইফুল্লাহসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এবং পরে মারধরের ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে পাভেল শাহবাগ থানায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তার বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
