বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হলেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকারকর্মী এবং সচেতন মহল বলছে, দিবসের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে বাস্তবে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।
গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। নরসিংদীতে চার সন্তানের এক জননী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
এছাড়া পাবনায় আলোচিত এক ঘটনায় দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। তাদের মতে, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, যা অপরাধ প্রবণতা কমাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক শিক্ষা এবং নারীর প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে নারীকে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রাধিকার।
এমন বাস্তবতায় নারী দিবসের প্রতীকী উদযাপনের পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
ন্যাশনিক্স/এএএইচপি
