ঝিনাইদহে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের মারধরে নিরব আহমেদ (২২) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিরব আহমেদের বাড়ি জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবার এলাকায়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নিরব তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যান। তবে সেখানে থাকা বিক্রয়কর্মীরা তাঁকে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুক্ষণ পর নিরব দেখতে পান স্টেশনের কর্মীরা বোতলে তেল ভরছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন করলে বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশনের কয়েকজন কর্মী বাঁশের লাঠি দিয়ে নিরবকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সব্যসাচী পাল সুমন জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় নিরবকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর কাঁধ ও মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। রাত ৯টা ৫ মিনিটে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে নিরবের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তাঁকে মারধর করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, ঘটনার পর তাজ ফিলিং স্টেশনের তিন বিক্রয়কর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় নিরব প্রথম সারিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শহরের আদর্শপাড়া এলাকার বকুলতলায় একটি মেসে থাকতেন।
