ভাইরাল ছবির কিশোর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লালটু নন, তিনি জহর সেন

অবশ্যই পরুন

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লালটু ইন্তেকাল করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পুরোনো ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ছবিটিকে লালটুর কিশোর বয়সের ছবি বলে দাবি করছেন এবং ইনবক্সে জানতে চেয়েছেন এর সত্যতা। দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে জানাচ্ছি, ছবিটি নুরুজ্জামান লালটুর নয়। ছবির কিশোর যোদ্ধা হলেন মুক্তিযোদ্ধা জহর সেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বিদেশি সাংবাদিকদের দেশে প্রবেশে কড়াকড়ি থাকলেও ফরাসি নারী ফটোসাংবাদিক অ্যান ডি হ্যানিং গোপনে যশোর সীমান্ত দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। তিনি কুষ্টিয়া, কুমারখালী, পাংশা ও গোয়ালন্দ এলাকায় ঘুরে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকের কিছু বিরল ও ঐতিহাসিক ছবি ধারণ করেন। তাঁর তোলা এক বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায় লুঙ্গি পরা, কাঁধে থ্রি-নট-থ্রি (.৩০৩) রাইফেল ঝুলানো এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। সেই তরুণই ছিলেন জহর সেন।
সিলেটের জকিগঞ্জের বাসিন্দা জহর সেন কুষ্টিয়ায় পুলিশে কর্মরত ছিলেন। নিজের ব্যবহৃত .৩০৩ রাইফেল নিয়েই তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে হবিগঞ্জের বাহুবলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। জানা যায়, একাই ১৭ জন পাকসেনা ও ২ জন আলবদর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছিলেন।
যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, রাজাকারদের প্ররোচনায় তাঁর বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরিবারের ওপর নেমে এসেছে নির্মম নির্যাতন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও নির্যাতনের মুখে পড়ে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯০ সালে ভারতে চলে যান এবং অভিমানবশত কখনও মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করেননি।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ২০২৩ সালের ২৪ জুন ভারতের আসামের করিমগঞ্জে মৃত্যুবরণ করেন। স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখা জহর সেন তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান পাননি। – (তথ্যসূত্র : ‘ সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ’ লেখক : সালেকউদ্দিন)

লেখা: ফাইজার চৌধুরী

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ