গত ১৭ মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সক্রিয় কিছু সমন্বয়কের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সন্ত্রাস, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, খুন, সংবাদমাধ্যমে হামলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার মতো নানা ঘটনার সঙ্গে তাদের নাম উঠে আসে।
স্থানীয়ভাবে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, তখনকার পরিস্থিতিতে থানায় মামলা করতে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, অভিযোগ গ্রহণে অনীহা বা বাধার ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশ বিভাগ এসব অভিযোগ পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পূর্বের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি গত ১৭ মাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মামলা দায়েরের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তদন্ত প্রক্রিয়ায় একাধিক সমন্বয়ক ও তাদের সহযোগীরা আইনের আওতায় আসতে পারেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র আরও জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সময়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের ঘটনা, থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের অভিযোগে জড়িতদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ শেষে মামলা দায়ের ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদ, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
