বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি এ সিদ্ধান্তকে “রূপান্তরের মোড়কে কর্তৃত্ববাদ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে দেশের কোটি কোটি ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছে।
একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া লিখিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে প্রাণহানির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ওই সহিংসতার বিচারিক তদন্ত অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা নেওয়ার পর বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এতে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের চিহ্নিত করার পথ রুদ্ধ হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যত দল নিষিদ্ধ করার শামিল। তার ভাষায়, কোনো দলকে নির্বাচন করতে না দিলে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু বা বৈধ বলা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলে ব্যাপক জনসমর্থন পেত এই আশঙ্কা থেকেই দলটিকে বাইরে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, অথচ তারা দেশের আইনি কাঠামো পরিবর্তন করে নিজেদের সিদ্ধান্ত বৈধ করার চেষ্টা করছে। তার মতে, এটি গণতন্ত্র নয় বরং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দমন করার কৌশল।
২০২৪ সালের সহিংসতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শুরুতে ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে সরকার গুরুত্ব দিয়েছিল এবং কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরে আন্দোলনটি সহিংস রূপ নেয় এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা হয়। তিনি দাবি করেন, এসব সহিংসতায় উগ্র গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল, যার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশে ভয় ও বাছাই করা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, যা টেকসই নয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো দলকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ফলে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী চরিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। তার মতে, ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দুর্বল করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানসম্মত শাসনব্যবস্থা, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে না। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুত্র: The Print
ন্যাশনিক্স/এলকে
