নিজ গ্রামে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার শেষ ইচ্ছা আর পূরণ হলো না ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্র। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাদিকে দাফন করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর কবরের পাশে।
এর আগে বিভিন্ন লেখালেখি ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে হাদি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন—মৃত্যুর পর যেন তাকে বাবা আব্দুল হাদির কবরের পাশেই দাফন করা হয়। তার পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার হাড়ড়িখালী গ্রামে, যেখানে তার বাবা শায়িত আছেন। তবে পরিবার জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।
হাদির ভগ্নিপতি মাওলানা আমির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,
“হাদি এখন আর শুধু আমাদের পরিবারের নয়, তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ। রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তা মেনে নিয়েছি। আমাদের একটাই চাওয়া—হাদির আত্মত্যাগ আর আদর্শ যেন হারিয়ে না যায়।”
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় নেমে আসে গভীর শোক। খাসমহল এলাকায় তার বাড়িতে শুক্রবার রাত থেকেই ভিড় করেন স্বজন, অনুসারী, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা। কান্না, বিস্ময় আর অবিশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
এলাকাবাসীর অনেকেই হাদির এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে যাকে দেখেছেন তারা, তার কণ্ঠে শুনেছেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আর ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ডাক। স্মৃতিচারণে উঠে আসে হাদির সরল জীবনযাপন, দৃঢ়তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা।
পরিবার ও অনুসারীদের একটাই দাবি—হাদিকে গুলি করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দিয়েছেন, হাদির শুরু করা ন্যায়বিচারের লড়াই কোনো মৃত্যুতেই থেমে যাবে না।
এদিকে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় ঝালকাঠিসহ বরিশাল বিভাগজুড়ে বাদ জুমা দোয়া মাহফিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম শরিফ ওসমান হাদির। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এক সন্তানের জনক হাদির জীবন আবর্তিত ছিল পরিবার, শিক্ষা আর আদর্শিক সংগ্রামকে ঘিরে।
যে মানুষটি বাবার কবরের পাশে ঘুমাতে চেয়েছিলেন, তাকে শুইয়ে দেওয়া হলো অন্যত্র
