কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে ঘটে গেল এক পরিবারের হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র শিশু সংশোধনাগারে বন্দি আর তার বাবা পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ছেলের কারাবাস ও বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।
রবিবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ রেজাউল করিম (৩৬)।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৬ নভেম্বর কোনো অভিযোগ ছাড়াই রেজাউল করিমের সপ্তম শ্রেণির ছেলে তাওসিফুল করিম রাফিকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ তার হাতে অস্ত্র দিয়ে সাজানো মামলায় শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, অপমান ও অসহায়ত্ব মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে পরিবারটিকে।
এরপর ৪ ডিসেম্বর আলোচিত ইউনুস মেম্বার হত্যা মামলার ‘এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি’ দেখিয়ে রেজাউল করিমকে কক্সবাজার শহরের একটি হাসপাতাল থেকে আটক করে র্যাব। আটক হওয়ার সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, হার্টের ব্যথাসহ গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। পুলিশ হেফাজতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
একের পর এক এই দুই ট্র্যাজেডিতে ভেঙে গেছে পরিবারটি। ছেলে কারাগারে বাবা আর নেই। কোনো কিছুই জানার সুযোগ নেই ছোট্ট রাফির; সংশোধনাগারের উঁচু দেয়ালের ভেতর আটকে আছে তার শৈশব, বাইরে বাবার মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে জীবন।
স্থানীয়দের ভাষ্যে, “যে বয়সে রাফির বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তাকে বন্দিজীবনের স্বাদ নিতে হচ্ছে। আর ছেলের মুক্তির আশায় থাকা বাবা নিজেই চলে গেলেন বিচারহীনতার আড়ালে।”
রেজাউল করিমের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারদিক। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
একটি সাজানো মামলা আর একটি পরিবারের সুখের সংসার মুহূর্তে ভেঙে গেল বিধ্বস্ত জীবনযুদ্ধে।
ন্যাশনিক্স/এজে
