বাংলাদেশে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অভ্যন্তরীণ সরকারের অধীনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার এবং সহিংসতার ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। তার পরপরই গঠিত হয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গণতন্ত্র ও নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এমনকি জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই রায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, দুইজনের অনুপস্থিতিতে দ্রুতগতির এই বিচার ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন’ তুলেছে। সংস্থাটি রায় ঘোষণাকে ‘নজীরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে।
একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে, তবুও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে যে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনিতে হত্যা, যার ভুক্তভোগীদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নেতাকর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় দুই শতাধিক সাবেক এমপি বর্তমানে গ্রেপ্তার, প্রায় দুই লাখ নেতাকর্মী আটক এবং অন্তত ৫০০ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এসব ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং আইসিটি নীতিনির্ধারক সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে “মাইনাস করার” প্রচেষ্টা চলছে।শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরতে না পারা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
