ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: অস্ত্র হাতে যুবক জামায়াতের কর্মী, দলের অস্বীকার

অবশ্যই পরুন

পাবনার ঈশ্বরদীতে পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়ার যে ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, সেখানকার যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া যুবক তুষার মণ্ডল ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। তিনি পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সহচর হিসেবে পরিচিত। যদিও আবু তালেব দাবি করেছেন তুষার জামায়াতের কর্মী নন এবং তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না।

সংঘর্ষের সময় তুষারকে প্রতিপক্ষের দিকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও তুষারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এবং তাঁর পরিবারও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ভেলুপাড়ার এক স্কুলশিক্ষক জানান, তুষার দীর্ঘদিন দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন এবং দেশে ফিরে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে। আরেক বাসিন্দা রেজাউল করিমও একই দাবি করেন।

ঘটনার পর একদিন পার হলেও কোনো মামলা হয়নি। চরগড়গড়ি, সাহাপুর ও আলহাজ মোড় এলাকায় এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানান- “পরিস্থিতি শান্ত আছে। কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন “দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে জামায়াতকর্মী তুষার। সে তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুনের সন্ত্রাসী।”

অন্যদিকে জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক আবু তালেব সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন “ওই যুবক আমাদের দলের কেউ নন। আমি তাকে চিনি না।”

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর জানান বিভিন্ন মাধ্যমে যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে, তদন্ত চলছে। সত্যতা মিললেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়, যার মধ্যে জামায়াত প্রার্থীও আছেন। রাতেই বিএনপির পক্ষ থেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলা হয় প্রকাশিত ছবিতে জামায়াতকর্মী তুষারকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে; শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় দলটি।

ঘটনার পর পরদিন বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে উভয় পক্ষই একে অপরকে হামলার জন্য দায়ী করে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ