আরো জোরালো হচ্ছে বন্দর বাঁচানোর আন্দোলন

অবশ্যই পরুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল, বিশেষ করে নিউমুরিং টার্মিনাল, বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা প্রতিহত করতে আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগামী বুধবার, ২৬ নভেম্বর, চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে। এই কর্মসূচিকে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা শাখা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

গতকাল রবিবার, রাজধানীতে বাম জোটের উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নেতারা বলেন, সরকারের গোপন পরিকল্পনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের বন্দরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা নজরুল ইসলাম, ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।

নেতারা সমাবেশে আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনমত উপেক্ষা করে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে লালদিয়া ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল বন্দরের ইজারা চুক্তি করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারের মধ্যে, সরকারের গোপন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই মূল্যায়ন কমিটি পাস ছাড়াই ৭ ও ৮ নভেম্বর চুক্তির নেগোশিয়েশন ও চূড়ান্ত দলিলের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুরাতন স্টেশন এলাকায় বাম জোটের সমাবেশে আগামী ২৬ নভেম্বরের চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি সফল করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি সফল করার জন্যও সমর্থন প্রকাশ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে হয়। তাই বন্দরের মতো কৌশলগত সম্পদ নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক লাভের ভিত্তিতে নেওয়া যায় না; দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা, ঝুঁকি, ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে একমাত্র প্রধান বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দিলে তা বিপজ্জনক।

এছাড়া, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত ৪৭টি শ্রমিক সংগঠনও ২৬ নভেম্বরের অবরোধ কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম ও সিলেট) কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী। মৃণাল চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক হৃদয়, যেখানে নৌবাহিনীর দপ্তর, তেল শোধনাগার কেন্দ্র ও বিমানবন্দর সংলগ্ন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এই বন্দরের কোনো অংশ হস্তান্তর জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি।

ন‍্যাশনিক্স/একেএ

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ