রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান বিপ্লবের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দুর্বৃত্ত চক্র। শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে টানা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এ তাণ্ডব। হামলার শুরুতে বাড়িটিকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলাকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় ও বহিরাগত ক্যাডার হতে পারে। অধিকাংশের মুখে মুখোশ ছিল। আতঙ্কের কারণে কেউ বাইরে বের হতে না পারলেও জানালার ফাঁক দিয়ে কিছুটা দৃশ্য দেখতে পেরেছেন।
জানা যায়, খালেদ হাসান বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে খুঁজতেই শনিবার রাতে বড় একটি দল কাজলা নতুন বৌবাজার এলাকায় তাদের বাড়িতে হানা দেয়। বাড়িতে বিপ্লবকে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা দোতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত সব ঘরে ভাঙচুর চালায়। টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, আসবাবপত্রসহ তিনটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয় এবং পরে মোটরসাইকেলগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
হামলার সময় বিপ্লবের বাবা হেলাল উদ্দিনকে (৬২) একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হয় এবং মা খালেদা বেগমকে (৬০) হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করেছিল। খালেদা বেগম অনুনয়-বিনয় করলে হামলাকারীরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উল্লাস করে সরে যায়।
ঘটনার পর পরিবার ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশের একটি টহল দল রাতেই বাড়িটি পরিদর্শন করে। তারা আহত খালেদা বেগমকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ভয়ের কারণে রাতেই বের হতে পারেননি তিনি। পরে রোববার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন এবং কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে মন্তব্য করা যাবে।
ন্যাশনিক্স/এজে
