সবজির দাম কমে বাজারে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। তবে সেই স্বস্তিতে ‘বাগড়া’ দিয়েছে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম। মাত্র এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম প্রায় অর্ধেক বেড়ে এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে হাতের নাগালে আসা সবজির সুবিধা অনেকটাই কমে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের তথ্য বলছে এক মাস আগের তুলনায় অনেক সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম ৭ শতাংশ থেকে ২০০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। শীতকালীন আগাম ফসল বাজারে ওঠায় সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে কেজিপ্রতি শিমের দাম ২০০–২২০ টাকা থেকে নেমে ৬০–৮০ টাকায় এসেছে। বেগুন, ঢেঁড়স, করলা, লাউ, পটোল, কাঁচা মরিচসহ বেশ কিছু সবজির দামও কমেছে। কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো, তাই প্রতিদিন সরবরাহ বাড়ছে।
• বেগুনের দাম কমেছে ৬৬–৮০ শতাংশ
• শিমের দাম কমেছে ১৭৫–২৩৩ শতাংশ
• করলা ও ঝিঙার দাম কমেছে ৪৩–৫০ শতাংশ
• কাঁচা মরিচের দাম ১০০–১৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে
এদিকে মুরগির বাজারেও স্বস্তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৬০–১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৬০–৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম পাওয়া যাচ্ছে ডজনপ্রতি ১৩০–১৩৫ টাকায়।
বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় সবজির দাম কমে আসায় মানুষ আবার ইচ্ছামতো বাজার করতে পারছে। কিন্তু পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই স্বস্তি ধরে রাখতে দিচ্ছে না।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও বাজারে ‘সংকট’ দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে লাভ তুলছে। তাদের দাবি সরকারকে দ্রুত বাজার নজরদারি বাড়াতে হবে, প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে আনতে হবে এবং কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বর্তমানে খুচরা বাজারের পাশাপাশি উৎপাদন অঞ্চলগুলোতেও পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাবনা ও রাজবাড়ীর পাইকারি ও খুচরা বাজারেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশি। কেউ বলছে দেশে উৎপাদন কমে গেছে, কেউ আবার ইচ্ছাকৃত বাজার অস্থির করার অভিযোগ তুলছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায় পেঁয়াজের প্রকৃত সংকট নয়, বরং পুরনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আমদানি বাড়ানো ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
