সরকারি উদাসীনতায় অন্ধকারে সেন্ট মার্টিন

অবশ্যই পরুন

সাগরের বুকে জেগে ওঠা নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন এখনো রয়ে গেছে অন্ধকারে। স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও দ্বীপবাসী আজও সরকারি বিদ্যুতের আলো দেখতে পায়নি। প্রায় ১১ হাজার মানুষের বসতি এই দ্বীপে, কিন্তু এখানকার রাত মানেই কেরোসিনের বাতি আর হারিকেনের ক্ষীণ আলো।

দ্বীপে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিয়া জানায়, “সন্ধ্যা নামলেই হারিকেনের আলোয় পড়তে হয়। চোখে ব্যথা করে, মনোযোগ ধরে রাখা যায় না।” অষ্টম শ্রেণির উমর ফারুক বলেন, “মোবাইলের আলোয় পড়া সম্ভব হয় না সবসময়, এতে ভালো ফল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।”

সরকারি উদ্যোগ না থাকায় দ্বীপবাসী কয়েক বছর ধরে বেসরকারি ব্লু মেরিন এনার্জি পাওয়ার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। শুরুতে ইউনিটপ্রতি ৩১ টাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। তবুও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ মেলে না, রিচার্জের সময় বারবার টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন চলে না। সরকারকে বারবার জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলে না। বেসরকারি কোম্পানি ইচ্ছেমতো বিল নিচ্ছে, অথচ মানুষের আয় বলতে কিছু নেই।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন শুধু আশ্বাসে কি আলো জ্বলে? স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ বিদ্যুৎবিহীন থাকা নিঃসন্দেহে সরকারের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির প্রতি বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দেয়।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ