ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর দাবির মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার প্রকাশিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’-এর সংশোধিত গেজেটে এই দুটি পদ আর রাখা হয়নি।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ে দুটি নতুন পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘোষণার পরপরই হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠন সংগীত বিষয়টি রাখার বিরোধিতা করে।
তারা এটিকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে পদ দুটি বাতিল ও বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানায়। বিশেষ করে, চরমোনাইর পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রকাশ্যে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সমালোচনা করে ধর্মীয় শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান বলেন, নতুন বিধিমালায় শিক্ষক নিয়োগের চারটি বিভাগের পরিবর্তে এখন দুটি বিভাগ রাখা হয়েছে। সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ক সহকারী শিক্ষকের পদ বাদ পড়েছে। তবে ধর্মভিত্তিক চাপের কারণে পদ বাদ দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এছাড়া, সংশোধিত বিধিমালায় একটি শব্দগত ভুলও সংশোধন করা হয়েছে।
আগের বিধিমালায় বলা ছিল মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ২০% পদ বিজ্ঞান বিষয়ের স্নাতক এবং ৮০% পদ অন্যান্য বিষয়ের জন্য সংরক্ষিত। ফলে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রার্থীরা বাকি পদে আবেদন করতে পারছিলেন না। নতুন বিধিমালায় তাই ‘অন্যান্য বিষয়’ শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে ‘বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়’ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারেন।
সংশোধিত বিধিমালাটি কার্যকর হওয়ার পর, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষা এখন অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে বলে শিক্ষাবিদরা মন্তব্য করেছেন।
