দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক শিল্প এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একের পর এক ছোট ও মাঝারি আকারের পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা পুরো শিল্পখাতেই অস্থিরতা তৈরি করেছে।
শিল্প পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে মোট ১,৭২০টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি কারখানা স্থায়ীভাবে এবং ৬৭টি অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে গত এক বছরে। ফলে প্রায় ৫০,০০০ শ্রমিক কাজ হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন। যদিও মালিকপক্ষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে, তবুও কর্মসংস্থান হারানো শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করছেন—
আর্থিক সংকট, এলসি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ডার হ্রাস, এবং শ্রমিক অসন্তোষ।
বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে এলসি খুলতে না পারা এবং ব্যাংকিং জটিলতা কারখানাগুলোর কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত করেছে। ফলে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে।
শুধু কারখানা বন্ধই নয়, গত এক বছরে চট্টগ্রামের ৭০টি কারখানায় ৩১৫ বারেরও বেশি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। বেতন-বোনাস পরিশোধে বিলম্ব, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং কারখানা বন্ধের আতঙ্ক এসব অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিল্প পুলিশ চট্টগ্রামের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে পোশাকখাত এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত নীতিগত সহায়তা, আর্থিক নিশ্চয়তা এবং এলসি জটিলতার সমাধান না করে, তাহলে আরও বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।”
চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী রপ্তানি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেই জায়গায় অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব এবং উৎপাদন হ্রাস নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উভয় মহলে।
ন্যাশনিক্স/এপি
