কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বড়িয়া জামে মসজিদে আছরের নামাজ শেষে ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজাকে রাজনৈতিক আলোচনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানালে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাজাহান আলী হান্নান লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে সালাম বিনিময়ের সময় বিএনপি নেতা হামজাকে রাজনীতি না করার অনুরোধ জানান। এতে কিছু মুসল্লির মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এতে তিনি সামান্য আহত হন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, “আমি শুধু বলেছিলাম মসজিদে যেন রাজনীতি না হয়, ইসলাম নিয়েই আলোচনা করুন। এরপরই তারা আমার ওপর হামলা চালায়।”
বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আনিসুর রহমান বলেন, “হান্নান ভাই নিজেই মসজিদের সভাপতি। তার সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। মসজিদ ধর্মীয় স্থল সেখানে রাজনৈতিক আলোচনা কাম্য নয়।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। জেলা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার জানান, “মসজিদে রাজনীতি নিষেধ করা দোষের নয়। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।”
প্রসঙ্গত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে, মুফতি হামজা দাবি করেন, “আমি গণসংযোগ শেষে নামাজ পড়তে মসজিদে প্রবেশ করি। নামাজের পর ইমাম সাহেব সালামের আহ্বান জানান। এরপর কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়, যা পরে মিটে গেছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামাজ শেষে কথাকাটাকাটির জেরে হাতাহাতি হলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
ন্যাশনিক্স/ এপি
