পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন জাহাঙ্গীর। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করীম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেলের সভাপতিত্বে এতে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মির্জাগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।
ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার চলছে এবং সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর জাহাঙ্গীরকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের সভায় তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানও বলেন, অস্ত্র মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত একজন ব্যক্তির সভায় অংশ নেওয়া ও বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা প্রত্যাশিত নয়।
জাহাঙ্গীরকে সভায় আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, সংসদ সদস্যের পরামর্শে তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মামলাটি পুরোনো হওয়ায় বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, জাহাঙ্গীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ন্যাশনিক্স/এলকে
