মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের কলসিয়া গ্রামে স্টার ব্রিকসের অফিস কক্ষে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ইটভাটাটির মালিক মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মাগুরার বিএনপি সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায়ের সমর্থক স্থানীয় একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটাটি বন্ধ রাখা, চাঁদা দাবি এবং তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্টার ব্রিকসের অফিসে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তরিকুল ইসলামের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী একটি পক্ষের নির্দেশে স্টার ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ইটভাটাটি বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে তাঁর কাছে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করা হয়।
চাঁদা দাবির পাশাপাশি তরিকুল ইসলামের পৈতৃক মালিকানাধীন একটি পুকুর দখলের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের সহায়তায় ওই সময় পুকুরটি দখল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। পুকুর দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
সম্প্রতি চাঁদার বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তরিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে চাঁদার বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও পুকুরের দখল তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। তবে ওই শর্তে অপর পক্ষ রাজি না হওয়ায় সমঝোতা হয়নি।
তরিকুল ইসলামের অভিযোগ, ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া, চাঁদা দাবি এবং পুকুর দখলের চেষ্টার পর সর্বশেষ তাঁকে চাপে রাখতে স্টার ব্রিকসের অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চাপ ও হয়রানির ধারাবাহিকতা।
অগ্নিসংযোগে স্টার ব্রিকসের অফিস ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। গত দুই বছর ধরে তাঁকে হামলা, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এলাকায় রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর ব্যবসা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে ঘিরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
তাঁর অভিযোগ, এরপর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্টার ব্রিকস বন্ধ রাখা, চাঁদা দাবি, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। সর্বশেষ অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে আগুন দেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তরিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে নিতাই রায়ের সমর্থক স্থানীয় বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
