ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে দিনের বেলায় জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন দেলোয়ার হোসেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে তিনি রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পিস্তল বের করে ভয় দেখান এবং জোর করে তাকে একটি সিএনজিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষিকা। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তার দাবি, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে প্রায় এক মাস ধরে তার সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তার রাগ কমানোর জন্য তিনি তাকে সিএনজিতে করে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন। অপহরণের অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষিকা অভিযুক্তের সম্পর্কের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য, বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তার পথরোধ করেন এবং কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় পিস্তল দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান।
স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। স্কুল কমিটির পক্ষ থেকেও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
