অর্থের বিনিময়ে হয়েছিল শেখ হাসিনা পতনের ষড়যন্ত্র, জুলাইযোদ্ধা সজীবের ফেসবুক পোস্টে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!

অবশ্যই পরুন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে ঘিরে ‘পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ‘দ্য রেড জুলাই’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত মো. সজীব হোসেনের নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ শুরুর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তিনি নিজেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

সজীব হোসেনের ফেসবুক আইডিটি বাস্তব ও তার নিজস্ব—এটি যাচাই করা হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব হলে হামলা শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তিনি ছাত্রলীগের একজন কর্মীর মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তার দাবি, ওই ঘটনার পর ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা শুরু করে।

পোস্টে তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি অভ্যন্তরীণ এবং পুরো ঘটনা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা কিছু তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

পোস্টের সঙ্গে থাকা একটি ছবির বিষয়ে সজীব হোসেনের দাবি, ছবির একেবারে সামনে থাকা তরুণটি তিনি নিজেই এবং তার পেছনে থাকা ছয়জন ব্যক্তি তৎকালীন সংসদ সদস্য।

সজীব হোসেনের এই বক্তব্য সামনে আসার পর ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেওয়া ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতারা একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, এটি কেবল কোটা সংস্কার বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নয়; এর পেছনে সরকার পতনের পরিকল্পনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৮ জুলাই বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ গণভবন দখলের পরিকল্পনা করেছিল এবং তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আন্দোলন ও সহিংসতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা যাচাইয়ের কথাও বলেছিলেন।

পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও আন্দোলনের পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়। ফলে সজীব হোসেনের নিজের ফেসবুক পোস্টে আন্দোলনের পূর্বপরিকল্পনা এবং ১৫ জুলাইয়ের সংঘর্ষের আগে নিজের ভূমিকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি আওয়ামী লীগের তৎকালীন বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে আগে থেকেই কোনো সাংগঠনিক পরিকল্পনা ছিল কি না।

১৫ জুলাইয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও সমসাময়িক সংবাদে নথিভুক্ত রয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর ১৫ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকেল প্রায় ৩টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের সামনে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় এবং পরে সংঘর্ষ আশপাশের হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ২০২৪ সালের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগের সদস্যদের হামলায় আন্দোলনকারীদের অনেকে আহত হন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনের প্রাথমিক সূত্রপাত হয়েছিল সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থেকে এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে মো. সজীব হোসেনের ফেসবুক পোস্টটি জুলাই আন্দোলনের নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে নতুন একটি ব্যক্তিগত দাবি সামনে এনেছে, যেখানে তিনি নিজেকে ১৫ জুলাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রত্যক্ষ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আন্দোলনকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ