ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, নজরদারিতে ব্যর্থ সরকার

অবশ্যই পরুন

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একদিনে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনার কাছাকাছি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কয়েকটি ঘটনায় উড়ালসড়ক থেকে নিচের সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সব ঘটনার পেছনে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি পুলিশ।

এরই মধ্যে শনিবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও প্রবেশপথে দুই শতাধিক বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মোটরসাইকেল, বিভিন্ন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

তবে একদিনে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—নাশকতা ঠেকাতে আগাম গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্তকরণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না।

এর এক সপ্তাহ আগে, ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

গুলশানের ঘটনার পর রাজধানীতে সতর্কতা বাড়ানোর কথা জানানো হলেও এক সপ্তাহের মধ্যে ফের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনার পর রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা এখন বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কারা বিস্ফোরক সরবরাহ করেছে, ঘটনাস্থলে কীভাবে পৌঁছেছে এবং ঘটনার পর কোন পথে পালিয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে—ঘটনার পর চেকপোস্ট বাড়ানোর পাশাপাশি আগাম তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা কতটা কার্যকর হচ্ছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ