ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরকে ঘিরে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনীম আফরোজ ইমিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অতীতের মব-সংশ্লিষ্টতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ইমিকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে জুবায়ের লেখেন, ‘নেভার আস্ক মি এনিমোর’। একই পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন এই মহিলাকে থানায় দিয়ে এসেছিলাম!’। পোস্টে জুবায়ের আরও দাবি করেন, ইমি দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় গিয়েছিলেন এবং তাকে পুলিশে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। ওই সময় তাকে পুলিশে দেওয়ার ঘটনাকে অনেকে ‘মব’ হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন।
তবে এই বক্তব্যের পাশাপাশি ইমির নিজের একটি ফেসবুক পোস্টও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘এই কথাটা বলার পরে অনেক বড় বিপদ আসতে পারে, তবুও বলবই আজকে।’ এরপর তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করেন।
এবি জুবায়েরকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মব-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা হয়। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে দলবদ্ধভাবে আটক, ধাওয়া কিংবা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনায় একজন ছাত্রনেতার ভূমিকা কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে ধাওয়া ও আটকে রাখার চেষ্টার অভিযোগেও জুবায়েরের নাম আলোচনায় আসে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে তাকে ওই ঘটনায় জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরই মধ্যে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে জুবায়েরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে।
একের পর এক বিতর্কের কেন্দ্রে আসার ঘটনায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা বিরোধ ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য মোকাবিলা করবেন প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায়, নাকি মব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে?
