বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও ক্ষমতার কেন্দ্রে তারেক রহমান। আর তাঁর ক্ষমতার উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো হাওয়া ভবন, গাজীপুরের ‘খোয়াব’ ভবন, গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, চাঁদাবাজি, টেন্ডার-দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা এসব বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় হাওয়া ভবনকে ঘিরে তারেক রহমানের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাবের কথা তখনকার সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। ২০০৭ সালের একটি প্রতিবেদনে তাকে কার্যত সরকারের বাইরে আরেকটি ক্ষমতাকেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগে বর্ণনা করা হয়েছিল। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। ২০০৭ সালের একটি মামলায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
হাওয়া ভবনকে ঘিরে টেন্ডার, নিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও সে সময় পুলিশের নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসে। একই সময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হাওয়া ভবনের প্রভাব ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছিলেন।
গাজীপুরের ছায়াবীথির ‘খোয়াব’ ভবনও সে সময় আলোচনায় আসে। ২০০৭ সালের ১৬ মার্চের দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে ভবনটির সঙ্গে তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ঘনিষ্ঠতার কথা, বিলাসবহুল গাড়ির যাতায়াত এবং সেখানে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল। আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ওই ভবনে হয়েছিল।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাও দীর্ঘদিন আলোচিত ছিল। ২০১৬ সালে হাইকোর্ট তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল; মামলাটিতে ২০০৩–২০০৭ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগ ছিল।
২১ আগস্ট ২০০৪ সালের আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলাতেও তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। কিন্তু ২০২৪ সালে হাইকোর্ট সব আসামিকে খালাস দেয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগ সেই খালাস বহাল রাখে।
একইভাবে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের আগের সাজাও ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়।
অর্থাৎ তারেক রহমানের রাজনৈতিক অতীত নিঃসন্দেহে বহু বিতর্ক ও মামলায় ঘেরা। হাওয়া ভবনের ক্ষমতার প্রভাব, গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থপাচারের মামলা এবং ২১ আগস্ট হামলা সবকিছু মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অতীত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
আজ সেই তারেক রহমানই আবার রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে। তাই প্রশ্নটি শুধু অতীতের অভিযোগ নিয়ে নয় পুরোনো হাওয়া ভবনের সেই ক্ষমতার সংস্কৃতি কি নতুন সরকারের সময় আবার ফিরে আসবে, নাকি অতীতের বিতর্ক পেছনে ফেলে ভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পথ তৈরি হবে? বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোর একটি সেটিই।
