আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে রায়কে ‘প্রহসনের মামলা’ এবং আদালতকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে এর বৈধতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কয়েকজন নেতা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে রায়কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল দৃঢ়। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও একতরফা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া এমন রায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বা মনোবলকে প্রভাবিত করবে না। তারা রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন—“উই ডোন্ট কেয়ার”।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, মামলার পুরো প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ প্রহসনের বিচার, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষ রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ এটিকে সরকার ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তির রায় হওয়ায় এর আইনগত প্রক্রিয়া, বিচারিক স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ আপিলের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—রায় যত কঠোরই হোক, তারা রাজনৈতিকভাবে পিছু হটছেন না। তাদের ভাষায়, “উই ডোন্ট কেয়ার।”
