রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মব সন্ত্রাসে নিহত হন তিনি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুই বছরেও কার্যকর বিচার নিশ্চিত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা ও মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। সেই সময় রাজশাহীতেও মব সন্ত্রাসের শিকার হন আব্দুল আল মাসুদ।নবজাতক সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে যাওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে মব সন্ত্রাস চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
মাসুদের জীবনে এটি প্রথম মব সন্ত্রাসের ঘটনা ছিল না। এর আগে ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মব সন্ত্রাস চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় তার ডান পায়ের গোড়ালির অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে প্লাস্টিকের পা ব্যবহার করে তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবনযাপন করতে হয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও মাসুদ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ফের ছাত্রশিবিরের মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি। স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবারও তাকে লক্ষ্য করেই এই মব সন্ত্রাস চালানো হয়।
মাসুদ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সালাউদ্দিন আম্মার, হত্যাকাণ্ডের পরও আম্মারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস পদে রয়েছেন।
মাসুদের স্বজন ও সহযোদ্ধাদের প্রশ্ন, একজন পঙ্গু সাবেক ছাত্রনেতাকে মব সন্ত্রাস চালিয়ে হত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতার পদে আসীন হলেন?
আজ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আব্দুল আল মাসুদ হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলো। স্বজনদের অভিযোগ, এত সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার হয়নি।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ছাত্রশিবিরের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
