ছাত্রী সংস্থার আড়ালে যৌনতার ফাঁদ ও পতিতাবৃত্তির অভিযোগ, নেপথ্যে শিবিরের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি!

অবশ্যই পরুন

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ইসলামী ছাত্রী সংস্থাকে ঘিরে হানিট্র্যাপ, গোপনে ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং যৌন শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। আমাদের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সমর্থনে একাধিক নথি, ডিজিটাল যোগাযোগ, ভিডিওসহ বিভিন্ন উপাদান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়; বরং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে কথিত সাংগঠনিক যোগাযোগ ও তদারকির মাধ্যমে এর একটি অংশ পরিচালিত হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পরিচয় ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তরুণীদের নির্দিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, কর্মকর্তা কিংবা অন্য টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করানো হতো। পরে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সাক্ষাতের পরিস্থিতি তৈরি করে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ভিডিও পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল, চাপ প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো এমন তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কিছু ব্যক্তির সরাসরি যোগাযোগ থাকার দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাকে টার্গেট করা হবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হবে, কোথায় সাক্ষাৎ হবে এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে ওই ব্যক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে এসব বিষয়ে শিবিরের কিছু নেতার ভূমিকা ছিল। আরও অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর কিছু সদস্য এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদারকিও করতেন।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কথিত এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান ও বিস্তৃত হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আবাসন এবং অভিজাত হোটেলকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, টার্গেট ব্যক্তিকে প্রথমে সামাজিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে কাছে আনা হতো। এরপর সাক্ষাৎ বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ তৈরি করে গোপনে ভিডিও ধারণ করা এবং পরবর্তী সময়ে সেই ভিডিও দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও কথিত ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে এমন প্রমাণ অনুসন্ধানে এসেছে।

এই অনুসন্ধানের দাবি অনুযায়ী, কথিত নেটওয়ার্কে নারীদের ভূমিকা ছিল মূলত টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও পরিস্থিতি তৈরি করা; আর শিবিরের কিছু নেতাকর্মী কথিতভাবে টার্গেট নির্বাচন, যোগাযোগ এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতেন। এখানেই ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জামায়াতে ইসলামীর কিছু ব্যক্তির মধ্যে কথিত যোগসূত্রের অভিযোগটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ