গ্যাস সংকট: নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন আশ্বাসে বিভ্রান্ত জনগণ, ক্ষোভ প্রকাশ

অবশ্যই পরুন

দেশে রূপরেখা না দিয়ে একেক নেতার ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা বেঁধে দেওয়াকে সাধারণ মানুষ এখন বিভ্রান্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছে।

​সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে দলটির শীর্ষ ও দায়িত্বশীল নেতাদের মুখ থেকে শোনা গেছে নানা পরস্পরবিরোধী দাবি। সম্প্রতি দলের এক শীর্ষ নেতা গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, মহেশখালীর কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অথচ এর পরদিনই অন্য এক শীর্ষ পদে থাকা নেতা দাবি করেন, মাত্র এক সপ্তাহ বা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম-দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই নাকি সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আবার সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের উপদেষ্টারা বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বিগত বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে বলছেন, রাতারাতি এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

​একই সংকট ঘিরে বিএনপি নেতাদের এই ‘যার যার মতো’ মন্তব্য এবং পরস্পরবিরোধী সময়সীমা ঘোষণায় চরম ক্ষোভে ফুঁসছে ক্ষুব্ধ জনতা। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের স্পষ্ট বক্তব্য— যখন ঘরে রান্না বন্ধ, শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্থবির এবং মানুষ দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে নেতাদের এসব অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য ‘পাগলের প্রলাপ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবে গ্যাস কখন মিলবে, নাকি এই আশ্বাস কেবলই রাজনৈতিক ফাঁকা বুলি— সেই প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা।

​জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের অভাব ঢাকা পড়ছে এসব বেপরোয়া ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ আশ্বাসে। তাৎক্ষণিক ও বাস্তবসম্মত কোনো ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ না রেখে কেবল একের পর এক ভিন্ন সময়সীমার কথা বলে জনগণকে শান্ত রাখার এই চেষ্টা উল্টো জনমনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছ। সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা আর কোনো বিভ্রান্তিকর কথা বা কাল্পনিক সময়সীমা শুনতে চান না; তারা অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান সমাধান চান।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ