সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের এক যুগেরও বেশি সময় পর নতুন করে সামনে এসেছে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ যোগসূত্রের তথ্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনায় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন’ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন এই তথ্য প্রকাশের পর ২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পরপরই আলোচনায় আসা সাগর-রুনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কথিত পরকীয়ার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে। সে সময় বিভিন্ন সংবাদ ও অনলাইন লেখায় রুনির সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং এ নিয়ে দাম্পত্য টানাপোড়েনের নানা দাবি প্রকাশিত হয়েছিল।
যে এসএমএস ঘিরে শুরু হয়েছিল আলোচনা
২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি তৎকালীন সংবাদসূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মেহেরুন রুনি এক ব্যক্তিকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। সেখানে লেখা ছি ‘তুমি তোমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দাও, আমি সাগরকে ছেড়ে দিচ্ছি’। একই লেখায় দাবি করা হয়, হত্যাকাণ্ডের আগের সাত দিনে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রুনির মোবাইলে বিপুলসংখ্যক কল ও এসএমএস আদান-প্রদান হয়েছিল।
ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, গোয়েন্দারা রুনি ও সাগরের মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে কয়েকজনকে সন্দেহের আওতায় এনেছিলেন।
২০১২ সালের জুনে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ সুত্রে লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, তৎকালীন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান সাগর-রুনি ‘পরকীয়ার বলি’ হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। ওই লেখায় রুনির ব্যক্তিগত জীবন, তার পরিচিতজন এবং সাগরের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যও তুলে ধরা হয়।
নতুন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ কে?
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ৩০ আগস্ট ২০২৬ দেওয়া বক্তব্যে প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় সিডিআর পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের একটি সূত্র পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের একটি ‘কানেকশন’ পাওয়া গেছে। বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাই পর্যায়ে এবং ওই ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইকে দেওয়া হতে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠছে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কি সাগর-রুনির পরিচিতজন ছিলেন? তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগের ধরন কী ছিল? সেই যোগাযোগ কি ২০১২ সালে আলোচনায় আসা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো পুরোনো সূত্রের সঙ্গে মিলে যায়!
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও হত্যাকাণ্ডের রহস্যের পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
এবার এই মামলায় একজন ব্যাক্তির সম্পৃক্ততা নিয়ে রুনির পরকিয়ার বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে।
