জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ব্যয় ১৬০০ কোটি, হামের টিকা আমদানিতে মাত্র ৬০৪ কোটি

অবশ্যই পরুন

জুলাইয়ে মৃত ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণে যেখানে প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানে সারা দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হামের টিকা আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০৪ কোটি টাকা। জাতীয় বাজেটের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতের ব্যবধান দেশের স্বাস্থ্য নীতি, জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব ও সরকারের অগ্রাধিকার নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

​জুলাই আন্দোলনের আহত ও নিহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রশ্ন উঠেছে সেই বরাদ্দের সঙ্গে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি স্বাস্থ্য খাতের তুলনা নিয়ে।

জনস্বাস্থ্যের চেয়ে কি আবেগ ও রাজনৈতিক পুনর্বাসন বড়?

দেশে হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে টিকা আমদানির প্রয়োজন পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করার জন্য ৬০৪ কোটি টাকার বাজেট অপর্যাপ্ত। শিশু স্বাস্থ্য রক্ষা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি।

​অন্যদিকে, ১,৬০০ কোটি টাকার বিপুল তহবিলের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই নানা সন্দেহ ও অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যেখানে দেশের সাধারণ হাসপাতালগুলোতে ওষুধের চরম সংকট, সেখানে কোটি কোটি টাকা প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিলি করার চেয়ে স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানো কি বেশি জরুরি ছিল না?

যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই:

অগ্রাধিকারের ভুল নির্ধারণ: দেশের লাখ লাখ শিশুর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৬০৪ কোটি টাকা, আর নির্দিষ্ট একটি খাতের জন্য ১,৬০০ কোটি টাকা—এ বাজেট কি জনস্বাস্থ্যের চেয়ে সাময়িক রাজনৈতিক ও আবেগীয় সিদ্ধান্তকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?

বাজেট বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব: জুলাই যোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত বিপুল অংকের অর্থ কি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছাচ্ছে, নাকি তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অপচয় হচ্ছে?

দূরদর্শিতার অভাব: স্বাস্থ্যখাতের টেকসই অবকাঠামো তৈরি না করে নির্দিষ্ট কোনো খাতে মোটা দাগের অনুদান দেওয়া কি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মৌলিক দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে?

​একটি দায়িত্বশীল সরকারের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা। ইতিহাস ও ত্যাগকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জীবন রক্ষায় হামের মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা আরও বেশি দূরদর্শিতার দাবি রাখে। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা মেটাতে গিয়ে যদি জনস্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার অবহেলিত হয়, তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ