২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত সহিংস হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ে ৪৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক এনএসআই মহাপরিচালক আবদুর রহিমসহ আরও অনেকে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য কায়কোবাদসহ অন্যরা।
তবে পরবর্তী সময়ে মামলার পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে ২১ আগস্ট হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় দণ্ডিত ৪৯ আসামিকেই খালাস দেন। আদালত সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচারিক আদালতের কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের খালাসের রায় বহাল রাখেন। ফলে বর্তমানে ২১ আগস্ট হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় ২০১৮ সালে দণ্ডিত কোনো আসামিরই আগের সাজা বহাল নেই।
তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, তারেক রহমান, কায়কোবাদসহ মামলার আসামিদের বিষয়ে ২০১৮ সালের বিচারিক আদালতের সাজা এখন আর কার্যকর নেই। অন্যদিকে মামলার কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন হারিছ চৌধুরী ও আবদুর রহিম।
২০০৪ সালের সেই হামলায় আহতদের অনেকেই শরীরে স্প্লিন্টারের ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাপন করেছেন। হামলার ২২ বছর পরও ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত ও বিতর্কিত বিচারিক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
