দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক

অবশ্যই পরুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৬৯০ বন্দি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। পলাতকদের মধ্যে দুই জঙ্গিও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বন্দি পালিয়েছিল নরসিংদী কারাগার থেকে। সেখানকার পলাতক ৮২৬ জনের মধ্যে ১৬৬ জনের এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকায় কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, ওই সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে ৬৯০ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।

কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

দেশে বর্তমানে ৭৫টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার। এসব কারাগারে মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার।

কারাগারে বন্দিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। খাবারের পরিমাণ ও মান নিয়ন্ত্রণেও প্রতিটি কারাগারে ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দেশের ২১টি কারাগার সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

কারাগারে মোবাইল ফোন ঠেকাতে অভিযান

কারাগারে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা সম্ভব নয় যে কেউ মোবাইল ব্যবহার করছে না। তবে এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

তার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কারাগারগুলো থেকে ৩ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কমে আসছে বলেও জানান তিনি।

বন্দিদের মৃত্যু ও চিকিৎসা সংকট

কারাগারে বন্দিদের মৃত্যু এবং নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই। তবে কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।

বর্তমানে ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ২০২৫ সালে কারাগারে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন আরও ১২২ জন।

মাদক ও দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’

কারাগারে মাদক প্রবেশ এবং এর সঙ্গে কারারক্ষীদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক জানান, মাদক ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত দুই বছরে মাদক ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের কারণে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে ৩০৩ জনকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

কোনো কারারক্ষী মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ